আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় – ডাটাবেস ইউজারদের বিভিন্ন গ্রুপের বর্ণনা যা অধ্যায়-২ এর ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এ অন্তর্ভুক্ত। এটি চার বছর মেয়াদি কোর্সের আলোকে লেখা হয়েছে। ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বিভিন্ন ইংরেজি বই অনুসরণ করেই রচনা করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের যে-কোন বই সম্পূর্ণরূপে বাংলা ভাষায় রচনা করা সম্ভব নয়। এজন্যে কিছু কিছু ইংরেজি শব্দকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়নি। ফলে ছাত্রছাত্রীদের হয়ত কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।
ডাটাবেস ইউজারদের বিভিন্ন গ্রুপের বর্ণনা

ডাটাবেস ইউজারদের বিভিন্ন গ্রুপের বর্ণনা
ডাটাবেস ইউজার (Database user): যে সমস্ত ব্যক্তি ডাটাবেসে ডাটা প্রবেশ বা সন্নিবেশ করায়, ডাটা মুছে ফেলে, ডাটাবেস মডিফিকেশন করে, অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম রচনা করে ডাটা পুনরুদ্ধার করে, তাদেরকে ডাটাবেস ইউজার বা ব্যবহারকারী বলে। অর্থাৎ এক কথায় বলা যায়-যারা ডাটাবেস ম্যানিপুলেট করে, তারাই ডাটাবেস ব্যবহারকারী।
ডাটাবেস ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন গ্রুপ (Different groups of database user) : ডাটাবেস সিস্টেমের প্রাথমিক উদ্দেশ্য (Primary goal) হল ডাটাবেসে নতুন ডাটা জমা করা এবং এ ডাটাবেস হতে ডাটা উদ্ধার করার জন্যে সহজতম পরিবেশ সৃষ্টি করা। ডাটাবেস সিস্টেমের সাথে পারস্পরিক (Interaction) ক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে ডাটাবেস ব্যবহারকারীদেরকে মোট চারটি গ্রুপে বিভক্ত করে। নিম্নে তাদের প্রত্যেকের বর্ণনা দেয়া হলঃ
(ক) অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামার (Application programmer),
(খ) সফিসটিকেটেড ইউজার (Sophisticated user),
(গ) স্পেশালাইজড ইউজার (Specialized user),
(ঘ) নাইভ ইউজার (Naive user)।

(ক) অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামার (Application programmer) : অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামার হল কম্পিউটার প্রফেশনালবৃন্দ (Computer professionals), যারা বিভিন্ন হোস্ট ল্যাংগুয়েজ (Host language) দ্বারা লিখিত প্রোগ্রামের মধ্যে ইমবেডেড ডিএমএল (Embeded DML) কলের (Call) মাধ্যমে সিস্টেমের সাথে পারস্পরিক ক্রিয়াশীল (Interactive) হয়। এখানে হোস্ট ল্যাংগুয়েজ বলতে COBAL, Pascal, C, PL/1 ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। এ ধরনের প্রোগ্রামকে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামও বলা হয়। আজকাল চতুর্থ প্রজন্ম প্রোগ্রামিং ভাষা (Forth generation programing language) ব্যবহার করেই সাধারণত অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামারবৃন্দ সিস্টেমের সাথে ইন্টারঅ্যাকটিভ হয়।
(খ) সফিসটিকেটেড ইউজার (Sophisticated user) : সফিসটিকেটেড User-রা কোন প্রোগ্রাম রচনা করে না বরং সরাসরি সিস্টেমের সাথে ক্রিয়াশীল (Interactive) হয়। তারা প্রোগ্রাম লেখার পরিবর্তে তাদের অনুরোধ (Request)-কে সরাসরি ডাটাবেস কুয়েরি ল্যাংগুয়েজে পাঠায়। এক্ষেত্রে কুয়েরি প্রসেসর এ ধরনের প্রতিটি কুয়েরি জমা করে। এরপর কুয়েরি প্রসেসর (Query processor) DML স্টেটমেন্ট গ্রহণ করে এবং তাদেরকে ইনস্ট্রাকশনে পরিণত করে। ফলে ডাটাবেস ম্যানেজার এ ইনস্ট্রাকশনগুলো বুঝতে সক্ষম হয়।
(গ) স্পেশালাইজড ইউজার (Specialized user) : কিছু কিছু সফিসটিকেটেড-ইউজার স্পেশালাইজড ডাটাবেস অ্যাপ্লিকেশনে প্রোগ্রাম রচনা করে, যা প্রচলিত ডাটা প্রসেসিং frame work এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়-কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন সিস্টেম, কমপ্লেক্স ডাটা টাইপ স্টোর সিস্টেম (যেমন-গ্রাফিক্স ডাটা ও অডিও ডাটা) ইত্যাদি। এ ধরনের ব্যবহারকারীদেরকে স্পেশালাইজড ইউজার। বলে।

(ঘ) নাইভ ইউজার (Naive user): এরা ডাটাবেসের সবচেয়ে সরল বা সাধারণ ব্যবহারকারী। এদেরকে আনসফিটিসটিকেটেড (Unsophisticated) ইউজারও বলা হয়। নাইভ ইউজারবৃন্দ মূলত পূর্বরচিত যে কোন একটি স্থায়ী এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ব্যবহার করে সিস্টেমের সাথে ক্রিয়াশীল হয়। অর্থাৎ এরা নতুন কোন প্রোগ্রাম রচনা করে না।
