বিভিন্ন প্রকার নেটওয়ার্ক

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বিভিন্ন প্রকার নেটওয়ার্ক

বিভিন্ন প্রকার নেটওয়ার্ক

 

বিভিন্ন প্রকার নেটওয়ার্ক

 

উৎস অনুসারে ইলেকট্রিক্যাল নেটওয়ার্ক দুই প্রকার, যথা-

অ্যাকটিভ নেটওয়ার্ক (Active network) :

এটি এমন একটি সার্কিট বা নেটওয়ার্ক, যাতে এক বা একাধিক (Emf) এর উৎস থাকে।

প্যাসিড নেটওয়ার্ক (Passive network) :

এটি এমন একটি সার্কিট বা নেটওয়ার্ক, যাতে ই.এম.এফ. (Emf)-এর কোনো উৎস থাকে না।

প্যারামিটারের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রিক্যাল নেটওয়ার্ককে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা—

লিনিয়ার নেটওয়ার্ক (Linear network) :

এটি এমন একটি সার্কিট বা নেটওয়ার্ক, যার প্যারামিটারসমূহ সর্বদাই স্থির থাকে, অর্থাৎ ভোল্টেজ বা কারেন্টের সাথে পরিবর্তিত হয় না।

নন-লিনিয়ার নেটওয়ার্ক (Non-linear network) :

এটি এমন একটি সার্কিট বা নেটওয়ার্ক, যার প্যারামিটারসমূহ ভোল্টেজ বা কারেন্টের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়।

অপারেশনের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রিক্যাল নেটওয়ার্ককে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা—

ইউনিল্যাটারাল নেটওয়ার্ক (Unilateral network) :

এটি এমন একটি সার্কিট বা নেটওয়ার্ক, যার কার্যক্রম বা অপারেশনের দিক অনুযায়ী এর বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি পরিবর্তিত হয়। যেমন- একটি ডায়োড রেকটিফায়ার একটি ইউনিল্যাটারাল সার্কিট বা নেটওয়ার্ক, যা উভয় দিকে শোধন বা রেটিফিকেশন সম্পন্ন করতে পারে না ।

বাইল্যাটারাল নেটওয়ার্ক (Bilateral network) :

এটি এমন একটি সার্কিট বা নেটওয়ার্ক, যার কোনো দিকেই বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলির কোনো পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ একই থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ট্রান্সমিশন লাইনকে একটি বাইল্যাটারাল নেটওয়ার্ক ধরা যায়, কারণ যে-কোনো দিকে এর কার্যক্রম সমানভাবে এ নেটওয়ার্ক সম্পন্ন করতে পারে ।

 

গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

সংযোগের ধরন অনুসারে নেটওয়ার্ককে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-

এল-নেটওয়ার্ক (L-network) :

এটি দু’টি সিরিজ রেজিস্ট্যান্স দ্বারা গঠিত এমন একটি সার্কিট, যার মুক্ত প্রান্তদ্বয় সরবরাহের প্রান্তদ্বয়ের সাথে এবং রেজিস্ট্যান্সদ্বয়ের সংযোগস্থল ও একটি মুক্ত প্রান্ত অন্য একটি সরবরাহের প্রান্তদ্বয়ের সাথে সংযুক্ত করা হয়।

 

টি-নেটওয়ার্ক (T-network) :

এটি তিনটা রেজিস্ট্যান্স ‘স্টার’ সংযোগে গঠিত এমন একটি সার্কিট, যার প্রত্যেকটি প্রান্ত একটি সাধারণ বিন্দুতে সংযুক্ত করা হয় এবং অবশিষ্ট প্রান্তগুলোর একটি ‘ইনপুট’ প্রান্তে, একটি ‘আউটপুট’ প্রান্তে এবং অন্যটি ‘ইনপুট’ ও ‘আউটপুট’ প্রান্তের সাধারণ বিন্দুতে সংযোগ করা হয়।

 

পাই-নেটওয়ার্ক (n-network) :

এটি তিনটি রেজিস্ট্যান্স ‘ডেলটা’ সংযোগে গঠিত এমন একটি সার্কিট, যার প্রতিটি রেজিস্ট্যান্স, পরস্পর সিরিজে সংযুক্ত হয়ে একটি বদ্ধ (Closed) সার্কিটের সৃষ্টি করে এবং প্রতিটি সংযোগস্থলের একটি ‘ইনপুট’ প্রান্ত, একটি ‘আউটপুট’ প্রান্ত এবং একটি ‘ইনপুট’-‘আউটপুট’ প্রান্তের সাধারণ বিন্দুতে সংযুক্ত করা হয়।

নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট আরো কিছু তথ্য :

নোড (Node) : এটা একটি সার্কিট বা নেটওয়ার্কের একটা জাংশন বা সংযোগস্থল, যেখানে উপাদান একত্রে সংযোগ করা হয়।
দুই বা ততোধিক সার্কিট

ব্রাঞ্চ (Branch) : ব্রাঞ্চ বা শাখা একটি নেটওয়ার্কের সেই অংশ, যা দু’টি জাংশন বা সংযোগস্থলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

 

বিভিন্ন প্রকার নেটওয়ার্ক

 

লুপ (Loop) : এটা একটি সার্কিটের বদ্ধপথ, যা একটি নোড থেকে শুরু হয়ে একাদিক নোডকে শুধুমাত্র একবার অতিক্রম করে পুনরায় প্রথম নোডে ফিরে আসে।

মেশ (Mesh) : এটা একটা লুপ, যার ভিতর অন্য কোনো লুপ থাকে না ।

আরও দেখুন :

বিভিন্ন প্রকার বৈদ্যুতিক নেটওয়ার্কের সংজ্ঞা ও তালিকা

Leave a Comment